একজন স্বাভাবিক মানুষের সারাদিন কি কি খাওয়া উচিৎ, সেটা জেনে নিন। | Dietitian Advice | Piyali Chatterjee

ডায়েট মানে অনেকেই মনে করেন যে, মোটা থেকে রোগা হওয়া বা রোগা থেকে মোটা হওয়া। কিন্তু ডায়েট মানে কিন্তু আদৌ তা নয়। ডায়েট কথার অর্থ হলো সুষম আহার। সেটার জন্যে আপনাকে না খেয়ে থাকলে চলবে না। পরিমিত খাবার খেতে হবে নিয়ম করে। এই পরিমিত খাবারের মাধ্যমে আমরা আমাদের সুঠাম দেহ তৈরী করতে পারি। এর জন্যে আমাদের রোজ একটা নির্দিষ্ট ডায়েটের মধ্যে দিয়ে যাওয়া উচিৎ। আজকে আমরা সেই বিষয়ে জানবো।
আমাদের যে পাঁচটা খাদ্য আছে যথা- শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ, চর্বি। এই পাঁচ প্রকার খাদ্যকে আমরা যদি প্রতিদিন একটা পরিমিত মাত্রায় খেতে পারি তাহলে আমাদের শরীর সব দিক থেকে উপকার পাবে।
শর্করার মধ্যে রয়েছে ওটস, কংফ্লেক্স, হোল উইটস, ভাত ইত্যাদি যেগুলো আমাদের রোজকার খাবারের তালিকায় থাকে। এর পরিমান নির্দিষ্ট রাখতে হবে, যেন পরিমানে বেশি না হয়। এরপর প্রোটিন জাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে ডাল জাতীয় খাবার, মাংস, মাছ, ডিম এবং দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার। চর্বি জাতীয় খাবারের ক্ষেত্রে আমাদের একটু খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে তেলটা আমাদের রোজকার খাবারে লাগে তাই চেষ্টা করবেন সারাদিনে ২০ গ্রামের বেশি অর্থাৎ চার চামচের বেশি তেল যাতে না ব্যবহার করা হয়। এরপরে আসে খনিজ এবং ভিটামিন এটা আমরা দৈনন্দিন যে শাকসব্জি এবং ফল খেয়ে থাকি তার থেকেই পূরণ হয়ে যায়। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় শাকসব্জি এবং ফল অবশ্যই রাখুন।

• দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা:
১) ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস জল খেতেই হবে। সেটা লেবু জল হতে পারে, মেথি ভেজানো জল হতে পারে বা জিরে ভেজানো জলও হতে পারে। এরপর প্রাতরাশের সময় একটু সিরিয়াল জাতীয় কিছু খেলে ভালো হয়। যেমন, ওটস, কংফ্লেক্স এর সাথে কিছু দুধজাতীয় জিনিস রাখতে পারেন। চা যদি খেতেই হয় তাহলে প্রাতরাশ করার ১০-১৫ মিনিট পর খান। তবে সেটা র চা বা গ্রীন চা হলে ভালো হয়।
২) দিনের মধ্যভাগে একটা ফল খাওয়া যেতে পারে। সেটা ১০০-১৫০ গ্রাম ওজনের হলে ভালো হয়।

৩) এরপর মধ্যাহ্নভোজনে ভাত, ডাল, সব্জি এবং মাছ বা মাংস রাখুন। যারা নিরামিষাশী তারা ডালের পরিমানটা বাড়িয়ে নিতে পারেন এছাড়া, পনীর এবং দই খেতে পারেন।
৪) বিকেলর দিকে মুড়ি, চিরে খেতে পারেন তার সাথে একটা শশাও খাওয়া যেতে পারে। এরপর যদি আপনি চা খেতে চান তাহলে চিনি ছাড়া চা লিকার চা বা গ্রীন চা খেতে পারেন।
৫) রাতে ভাত বা রুটি খেতে পারেন। রুটি হলে দুটো আর ভাত হলে ৫০ গ্রামের বেশি যেন না হয়। এর সাথে মাছ বা মাংস খাওয়া যেতে পারে। তবে মাছ বা মাংস কতটা খাবেন সেটা আপনার শরীরে প্রোটিনের চাহিদার ওপর নির্ভর করবে।

এই খাদ্যতালিকার মাধ্যমে এটাই বোঝানো হচ্ছে যে আমরা যদি সারাদিনে একসাথে অনেকটা খাবার না খেয়ে কয়েকটা মিলে (Meal) ভাগ করে নিই তাহলে অবশ্যই সেটা আমাদের শরীরে চর্বিকে সঞ্চার হতে দেয় না। এই যে সারাদিনে ৫ টা ভাগে খাবার খেতে বলা হলো সেটা কোনোভাবেই একটাও খাবার বাদ দেওয়া যাবে না। এই খাবারের মধ্যে দিয়েই আমরা নিজেদের শরীরের ভারসাম্য বোঝায় রাখতে পারবো এবং সুস্থ শরীর গড়ে তুলতে পারবো। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।
সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। এই বিষয়ে আরও বিশদে জানতে আমরাদের Bengal Fusion চ্যানেলটিকে সাবস্ক্রাইব করুন এবং নীচে দেওয়া ভিডিওর লিঙ্কটিতে ক্লিক করুন।


