আর কতদিন? আমি আর পারছিনা! এটাই ভাবছেন তো? শুনুন তবে

ধরে আছি, ধরে থাক। পড়ে আছিস পড়ে থাক। এই কথাটার সঙ্গে আমরা অনেকেই পরিচিত। কিংবা আরেকটু ভালো করে যদি বলি তাহলে বলা যায় শেষ দেখে ছাড়বো। না কোন রাগ বা ক্ষোভ থেকেই কথা বলছি না। অর্থাৎ যাই ঘটুক না কেন পরিস্থিতির শেষ দেখে তবেই মাঠ ছাড়ার কথা বলা হচ্ছে। আজকের পর্বের আলোচনা আমাদের এই নিয়েই। চলুন তবে আজ একটা গল্প বলি। একটা সাপ আর একটা ব্যাঙের গল্প। একটা ব্যাঙ ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছে আজ যেন তাকে সাপের মুখে পড়তে না হয়। আত্মার ছেলে মেয়ের জন্মদিন আজ যেন সে নিশ্চিন্তে বাড়ি যেতে পারে কোন বিপদ ছাড়াই। একই সঙ্গে একটা সাপ তার গর্ত থেকে বেরোনোর আগে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছে আজ যেন একটা জবরদস্ত ব্যাঙ পাই। ঈশ্বর দুজনের কথা শুনলেন এবং দুজনকেই বললেন তথাস্তু। ব্যাঙ সারাদিন প্রচুর খাবার দাবার খেয়ে পেট ফুলিয়ে যখন বাড়ি ফিরছে তখন সাপ ঝোপের আড়াল থেকে দেখছে একটা নজর ব্যাঙ লাফাতে লাফাতে বাড়ি আসছে। অর্থাৎ ভগবান তার কথা শুনেছে। দেখতে না দেখতে সাপ থাকে অর্ধেকটা গিলে ফেলে। তখন সাপটা ধন্যবাদ দিল ঈশ্বরকে থ্যাঙ্ক ইউ জানালো যে তুমি আমার কথা রেখেছো থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ। উল্টোদিকে ব্যাঙ ঈশ্বরকে বলল আমি জানি তুমি আমার পরীক্ষা নিচ্ছো। অর্থাৎ প্রার্থনা টা একটু বদলে গেল। ব্যাঙ বলতে লাগলো তুমি আমার কষ্ট সহ্যের পরীক্ষা কিন্তু আমাকে এ যাত্রায় বাঁচিয়ে দাও। খানিকক্ষণ পর দুজনের প্রার্থনাই বদলে গেল। সাপ ভগবান কে বলতে লাগলো এত বড় ব্যাঙ সে এক বাড়ে গিলতে পারবে না তাই তাকে আর একটা সুযোগ ভগবান দিক। উল্টোদিকে ব্যাঙ ভগবানকে বলতে লাগলো ঈশ্বর যেন তাকে আরো একটা সুযোগ দেয় প্রাণ বাঁচানোর জন্য। এরই মধ্যে হঠাৎ করে আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামলো। আর দুজনেই যেন দৈববানী শুনতে পেল। সাপ শুনতে পেল ধরে আছিস ধরে থাক। আর ব্যাঙ শুনতে পেল পড়ে আছিস পড়ে থাক। এমন করে রাত কেটে গেল। সাপ যখন একটুখানি মুখ ফাঁক করে একটু কায়দা করে ব্যাঙকে আবার গিলতে গেল তখন ব্যাঙ সুযোগ বুঝে লাফ দিয়ে পালালো। তখন সব ভগবানকে বলতে লাগলো এ তোমার কেমন লীলা। মুখের খাবার মুখ থেকে কেড়ে নিলে। তখন ঈশ্বর তাকে বলল সে তার কথা শোনেনি। সেই সাপকে বলেছিল ধরে রাখতে। কিন্তু সে ধরে রাখেনি। আর ব্যাঙকে বলেছিল পড়ে থাকতে। তাই সে সুযোগ বুঝে লাফ মেরে পালিয়েছে।

আমাদের জীবনটাও কিন্তু এই গল্পের মতনই। কখনো আমরা সাপের অবস্থায় থাকি কখনো আমরা আবার ব্যাঙের অবস্থায় থাকি। অর্থাৎ আমাদের ধৈর্য ধরে নির্দেশ মেনে কাজে লেগে থাকতে হবে। এটাই আমরা করি কজন। আমরা হয়তো একটা সময় পর ঢিলে দিয়ে দিই আর তখনই হয়তো আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে আমাদের সুবর্ণ সুযোগটা বেরিয়ে যায়। তাই শেষ দেখে ছাড়বো এই মানসিকতা রাখতে হবে। আর যারা পর্যন্ত টিকে থাকে তারা কিন্তু সত্যিই ফল পায়। পেতেই হবে। কারণ কাজ করলে তার ফল পাবেই। আর গোল্ডেন টাইম সবার জীবনে আসে। আমাদের শুধু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। এবং চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। হতাশ হলে চলবে না। পরিস্থিতি কখনো ভালো কখনো মন্দ হবে। কিন্তু ধৈর্য আমাদের রাখতে হবে। হয়তো আমাদের কাছে এমন গোল্ডেন পরিস্থিতি এসেছিল যেটা আমরা তখন যেকোনো কারণেই হোক হেলায় হারিয়েছি। তাই এরপরের গোল্ডেন টাইম আসার জন্য আমাদের ধৈর্য রাখতে হবেই।
এই ব্যাপারে বিশদে জানতে নিচের লিংকটি ক্লিক করুন সেই সঙ্গে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেল Bengal Fusion.


