Protect Yourself From Cyber Crime| নিজের সিদ্ধান্ত ঠান্ডা মাথায় ভাবুন

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় জালিয়াতি দিন দিন বাড়ছে। আর এই জালিয়াতির ফাঁদ কিন্তু গোটা বিশ্বজুড়ে রয়েছে। যেখানে আমি আপনি খুব সহজেই ভুল সিদ্ধান্তের জন্য পড়তে পারি। আর যাতে শেষ হয়ে যেতে পারে আমাদের সবকিছু। তবে এমন ভাবার কোন কারণ নেই যে লোকটা এই ফাঁদে পা দিল সেই ভীষণ বোকা। অনেক শিক্ষিত মানুষ অনেক স্মার্ট মানুষও কিন্তু হট করে এইভাবে পা দিতে পারেন। কারণ যারা আমাদের ঠকানোর জন্য বসে রয়েছে তারা সমস্ত আট ঘাট বেঁধেই কিন্তু এই পথে নামে। তাই আজ আমরা জানবো ম্সিসিং বা এসএমএস ফিশিং নিয়ে। অর্থাৎ ব্যাংক একাউন্টের নাম করে পাঠানো ওটিপির মাধ্যমে কিভাবে ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে দেখলেন আপনার মোবাইলে একটি মেসেজ এসেছে আপনার একাউন্টে ১৫ হাজার টাকা কিংবা ৪০ হাজার টাকা ক্রেডিট হয়েছে। আপনি যদি টাকাটা নিজের একাউন্টে চান তাহলে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। আমাদের কমবেশি সকলের মধ্যেই একটু হলেও লোভ রয়েছে। তাই পুকুরে বড়লোক হওয়ার জন্য যখনই আমরা ওই লিংকে ক্লিক করে ফেলি তখনই আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে যাই। আবার এমন হতে পারে আপনার কাছে একটা মেসেজ এসেছে আপনার অ্যাকাউন্টে কুড়ি হাজার টাকা ভুল করে ক্রেডিট হয়ে গেছে। সেটা যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আপনাকে একটা ইউপিআই নাম্বার দেয়া হলো সেখানে ক্লিক করুন। ব্যাস তখনই খেল খতম। অথবা আপনার কাছে একটা ফোন এলো আপনি আজ থেকে সাত বছর আগে কিংবা দশ বছর আগে একটি পলিসি করেছিলেন। জিটিয়ার আপনি চালিয়ে নিয়ে যাননি। তাই এত বছরের সেটা ম্যাচিওর হয়েছে। সেই সঙ্গে বেশ মোটা অংকের একটা টাকা আপনি পাবেন যদি সামান্য কিছু টাকা আপনি পেনাল্টি হিসেবে দিয়ে দেন তো। এইগুলোকেই মূলত বলা হয় ম্সিসিং বা এসএমএস ফিশিং।

তার জন্য আপনাকে কি করতে হবে। প্রথমেই বলবো লোভ ছাড়তে হবে। সকাল বেলা কেউ কেন আপনাকে ৪০ হাজার টাকা পাঠাবে তাও ভুল করে। এটা একটু ভাবুন। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে তা ভাবা বা বিশ্বাস করাটা সত্যিই বড় ভুল। দ্বিতীয়ত ব্যাংক কখনোই আপনাকে বলবে না যে আপনি ইউপিআই-তে টাকা পাঠান বা লিংকে ক্লিক করুন। তিন নম্বর খেয়াল করবেন যে মেসেজগুলো আপনার কাছে আসে সেগুলো পার্সোনাল নম্বর থেকে আসে। ব্যাংক থেকে যদি মেসেজ আসে তাহলে তাহলে পার্সোনাল কোন নম্বর থেকে ব্যাংকের মেসেজ আসে না। কারণ আরবিআইএ নির্দেশ অনুযায়ী ব্যাংক সবসময় নিজের কোড ব্যবহার করে। আর সেই করে ব্যাংকের নিজের নাম থাকে। আর যদি কেউ ফোন করে বলে আপনাকে যে আপনার কাছে ভুল করে টাকা চলে গেছে অন্য কাউকে পাঠাতে গিয়ে। তাহলে অবশ্যই নিজের অ্যাকাউন্ট টা একবার চেক করুন। সেই টাকা যদি ভুল করে ক্রেডিট হয়েও থাকে তাহলেও আপনি পাঠাবেন না হতেই পারে কেউ কোনো খারাপ কাজ করার জন্য আপনাকে প্রথমে টাকাটা পাঠালো তারপর আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে সেই খারাপ কাজের টাকা অন্য একাউন্টে পাঠালো। তাতে দোষী কিন্তু হবে না আপনি। এক্ষেত্রে আপনি সরাসরি ব্যাংকের সাহায্য নিতে পারেন বা আপনার যারা ব্যাংকের পরিচিত ব্যক্তি রয়েছে তাদের সঙ্গে কথা বলুন পরামর্শ নিন। তবে একটা ব্যাপারে নিশ্চিত থাকুন কেউ আপনাকে ভুল করে লক্ষ লক্ষ টাকা পাঠাবে না। তার পেছনে নিশ্চয়ই কোন অসৎ উদ্দেশ্যই রয়েছে।বর্তমানে এই ধরনের জালিয়াতি ভীষণভাবে বেড়ে যায়। তাই যতটা সম্ভব সতর্ক থাকুন ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিন।
এই ব্যাপারে বিশদে জানতে নিচের লিংকটি ক্লিক করুন সেই সঙ্গে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেল Bengal Fusion.


