গৌতম বুদ্ধের মাথায় এই চুল বলে যেটা মনে হচ্ছে, সেগুলি আসলে কি

বৌদ্ধ ধর্মে বলা হয়েছে, বর্তমান নেপালের লুম্বিনিতে, খ্রিস্টপূর্ব ৬২৩ অব্দে গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন। ৫৮৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এই দিনে গৌতম বুদ্ধ সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। পাশাপাশি ৫৪৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দের এই একই দিনে তিনি মহানির্বাণ লাভ করেছিলেন। সিদ্ধার্থের বুদ্ধত্বলাভের মধ্য দিয়েই জগতে বৌদ্ধধর্ম প্রবর্তিত হয়।

ইতিহাস থেকে জানা যায় যে জ্ঞানার্জনের জন্য গৃহত্যাগ করার সময়ে গৌতম বুদ্ধ তাঁর মস্তক মুন্ডন করিয়েছিলেন। কিন্তু অধিকাংশ ছবি বা মূর্তিতে বুদ্ধের মাথায় ছোট ছোট গোলাকৃতি প্যাঁচানো চুলের জটা দেখা যায়। বুদ্ধের মাথায় এরকম ১০৮টি আংটির মত কার্ল চুল দেখা যায়। কিন্তু অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, শিল্পী বা স্থপতি কেন এমনটা চিত্র অঙ্কন করেছেন? বৌদ্ধধর্মের কাহিনি অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধের মাথায় এই চুল বলে যেটা মনে হচ্ছে, সেগুলি আসলে চুল নয়। এগুলি ১০৮টি শামুক।একদিন ভগবান বুদ্ধ একটি বৃক্ষতলে ধ্যানস্থ হয়েছিলেন এবং এতটাই নিমগ্ন ছিলেন যে, সময়ের দিকে তার নজর পড়েনি।

সূর্য তখন ঠিক মাথার উপর ছিল এবং তার প্রখর তেজে ধরিত্রী তখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। বুদ্ধদেব মুন্ডিত মস্তক হওয়ায় সূর্যের রশ্মি সরাসরি তাঁর মাথায় পড়ছিল। এই সময়ে একটি শামুক সেই স্থানটি দিয়ে যাচ্ছিল। শামুক খেয়াল করল যে, ভগবান বুদ্ধ এই গরমের মধ্যে ধ্যানস্থ হয়েছেন। যদিও তিনি একটি গাছের নীচে বসে ছিলেন কিন্তু সূর্য তখন একেবারে মাথার উপরে থাকায় তবুও তাঁর মাথায় রোদ পড়ছিল। শামুক ভাবল, মাথায় এত রোদ পড়ায় মনঃসংযোগ বিঘ্নিত হয়ে খুব শীঘ্রই বুদ্ধের ধ্যান ভঙ্গ হয়ে যাবে। আর দ্বিতীয়বার না ভেবেই শামুক সোজা বুদ্ধের মাথায় উঠে পড়ল। শামুকটি যেখানে বসেছিল সেখানে তার আদ্র শরীরের স্পর্শ বুদ্ধের মাথার মসৃণ এবং কোমল ত্বককে শীতল করে তুলছিল। প্রথম শামুকটির দেখাদেখি অন্য শামুকেরাও ধ্যানমগ্ন বুদ্ধের মাথায় উঠে পড়ে এবং বুদ্ধের সম্পূর্ণ মস্তকে একটি শীতল আবরণের সৃষ্টি করে। সর্বমোট ১০৮টি শামুকের শীতল এবং স্যাঁতসেঁতে দেহ অতিরিক্ত প্রায় কয়েক ঘণ্টা অবধি বুদ্ধের ধ্যান বজায় রাখতে সহায়তা করে। এরপরে সূর্যের প্রখর তেজে শামুকগুলি শুকিয়ে গিয়ে মারা যায়।



